ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এ সময় অধিবেশনে ১৭১টি দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মতোই মনে হচ্ছিল।
উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে ফ্রান্স, পেরু, ব্রাজিল, বলিভিয়া ও কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট এবং কানাডা, ইতালি ও টুভালুর প্রধানমন্ত্রী এবং রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী, চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত, মাকির্ন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশের বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয় এবং প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের সমর্থনে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিয়ে যেতে অব্যাহতভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ পুর্নব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশের বিবৃতিতে বলা হয়, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট জ্ঞান ও প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবো। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার গৃহিত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ বলেছে, আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনে সকল দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বাংলাদেশের মন্ত্রী চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এবং ইউএন এফসিসিসি’র নির্বাহী সচিব ক্রিস্টিনা ফিগুয়েরিসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে মন্ত্রী মঞ্জু তুরস্কের পরিবেশ মন্ত্রী ফাতমা গুলমেদেত সারি’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুই মন্ত্রী আগামী নভেম্বরে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ইউএনএফসিসিসি’র সম্মেলন এগিয়ে নিতে এক সঙ্গে কাজ করতে একমত হন।


Read more

এসডিজি অর্জনে নগর স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে

'নগরসমূহে স্বাস্থ্যসূচক বিষয়ে পৌরসভার করণীয়' শীর্ষক এক নীতি সংলাপে সুস্থ নগরজীবন নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা নগর স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশ বর্তমানে নগরে বাস করে। এ অবস্থায় নগর স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দিলে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়াসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর এলজিইডি মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ওয়াটার এইড এ সংলাপের আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন পৌরসভা থেকে সংলাপে অংশগ্রহণকারী মেয়র ও কাউন্সিলররা বলেন, পৌরসভার রাস্তাঘাট মেরামতসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও স্বাস্থ্যসেবার জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় না। তাই স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। সংলাপে পৌরসভায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নগরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল, চিকিৎসকসহ জনবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকে। তাই এ বিষয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে মানুষ সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। মেয়র ও কাউন্সিলররা বলেন, পৌরসভাগুলোতে চিকিৎসক সংকট ভয়াবহ। ৩২৪ পৌরসভায় মাত্র ১৬ জন চিকিৎসক আছেন। এ কারণে পৌরসভায় নামমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগ আছে, কোনো কাজ নেই। অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পিপিআরসি নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি দোলাচল ও অস্পষ্টতা আছে। তাই দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে বণ্টন হওয়া দরকার। তাহলে নগর স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সম্ভব হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ধীরাজ কুমার নাথ বলেন, পৌরসভার আয় বাড়াতে বিভিন্ন সেবা খাত থেকে যে রাজস্ব পাওয়া যায় তার একটি অংশ পৌরসভায় দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে পৌরসভার অনেক সমস্যার সমাধান মেয়ররাই করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক সচিব এএমএম নাসির উদ্দিন, বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বুশরা আলম, মিউনিসিপাল অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ, সভাপতি আবদুল বাতেন, ওয়াটার এইডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. খায়রুল ইসলামসহ পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা।

Read more

বাংলাদেশে ২ কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষণের শিকার

দেশের আর্সেনিক সমস্যা ২০ বছর আগে যে অবস্থায় ছিল, এখনো সেই অবস্থায় আছে। এখনো প্রায় ২ কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষণের শিকার। আর্সেনিক সমস্যা যতটা কারিগরি, তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক।নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ‘স্বজনপ্রীতি এবং অবহেলা: বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের খাবার পানিতে আর্সেনিক প্রতিরোধে ব্যর্থ প্রচেষ্টা’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এইচআরডব্লিউর দাবি, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৪৩ হাজার মানুষ আর্সেনিকজনিত রোগে মারা যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এইচআরডব্লিউর জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড পিয়ার্সহাউস গবেষণা প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নলকূপ যাচাই করে দেখা যায় যে দেশের ২০ শতাংশ নলকূপের পানিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক। প্রায় ২ কোটি মানুষ এই দূষিত পানি পান করে বা ব্যবহার করে। এত বছর পরও মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। এখনো প্রায় ২ কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষণের শিকার। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে আর্সেনিক সমস্যাটি চিহ্নিত হয়।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা বলেন, নিরাপদ পানির অধিকার একটি মানবাধিকার। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা আর্সেনিক দূষণের মতো বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন। বাংলাদেশের পাঁচটি গ্রামের তথ্য এবং কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর ডেভিড মেফাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওয়াটার এইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. খায়রুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আর্সেনিক দূষণ ও এর ভয়াবহতার বিষয়টি সরকার ও দাতারা ভুলে যেতে বসেছে। দূষণের শিকার মানুষের প্রতি চরম অবহেলা দেখানো হয়েছে। এইচআরডব্লিউর এই প্রতিবেদন বিষয়টির দিকে মনোযোগ আকর্ষণে সহায়তা করবে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নিরাপদ পানির অন্যতম উৎস গভীর নলকূপ। এর মূল্য প্রায় ১ হাজার ডলার হওয়ায় দরিদ্র মানুষ তা বসাতে পারে না। সরকারের কাছ থেকেই মানুষ গভীর নলকূপ পায়। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা, বিশেষ করে সাংসদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিজেদের লোকদের এসব নলকূপ দেন। রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের মধ্যে সাংসদদের ৫০ শতাংশ নলকূপ বরাদ্দে প্রভাব খাটানোর ব্যবস্থা আছে। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয় রাজনীতি। তবে এটি বিশেষ কোনো দলের ক্ষেত্রে সত্য তা নয়, সব দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের নীতি পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে।

Read more

বুড়িগঙ্গা উদ্ধারে আশু করণীয়

বুড়িগঙ্গা নদী ঢাকা মহানগরীর প্রাণপ্রবাহ। কিন্তু এ নদী আজ বিপন্ন। এ নদীর কাছে গেলে বা পত্রিকায় নদীর দুরবস্থা এ বিষয়ে পড়লে যে কোনো মানুষের মন কেঁদে ওঠে। বুড়িগঙ্গা নদী উদ্ধারে বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রায় একযুগ পেরিয়ে গেল, কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। উদ্ধারের নামে বহুমুখী প্রকল্প হয়েছে, অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার হচ্ছে। কিছু কাজও যে হয়নি, সেটা বলা যাবে না। কিন্তু বুড়িগঙ্গা অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনি আছে। এ নদীতে কেউ নামতে পারে না। এমনকি পাশ দিয়েও চলা যায় না। বুড়িগঙ্গা নদীর পুনরুদ্ধার, দূষণমুক্ত করা, পানির প্রবাহ, জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমান সরকারের গোড়া থেকেই বুড়িগঙ্গা উদ্ধারের দৃশ্যমান কার্যাবলি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এ উদ্দেশ্যে কয়েকটি কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিগুলো কাজ করছে। প্রকল্প গ্রহণের বিষয়েও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মেঘে মেঘে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে অনেক। বুড়িগঙ্গাকে অনতিবিলম্বে অপদখল ও দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে না পারলে বিলুপ্ত হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ঢাকাবাসীর দূষিত বায়ু পরিবেশে বসবাস অনিবার্য হয়ে পড়বে। পরিণাম কতই না ভয়াবহ। এ বিষয়ে ফুটপাতের টোকাই থেকে দেশের সবাই, বিশেষ করে ঢাকার সব বাসিন্দা পদে পদে টের পাচ্ছে। হাতে সময় নেই। আজই বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হবে। তার জন্য অতি সংক্ষেপে আমরা নিজেদের অবস্থান থেকে যে কাজগুলো করতে পারি বা করা যায় তা দয়া করে দেখুন। কী করবেন? পানি উন্নয়ন বোর্ড :বুড়িগঙ্গার দু'পাশে নদী রক্ষা বাঁধ যতটুকু নির্মিত আছে তা বেদখল ও দূষণমুক্ত রাখার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এর মধ্যে নদীর তীরে অবৈধ কাঠামো আছে, সেগুলো উচ্ছেদের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বাদী হয়ে জেলা প্রশাসন, ঢাকার সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে। বিআইডবি্লউটিএ :ঢাকা নৌবন্দর সীমার মধ্যে বুড়িগঙ্গা যে পরিমাণ তীরভূমি পড়েছে তা থেকে অবৈধ বাজার-হোটেল-প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে হবে। বিআইডবি্লউটিএর লিজকৃত একটি দোকান বা বাজার বা ঘাটে অস্থায়ী দোকানও রাখা যাবে না।

Read more

 


ভূমিকম্প: আমরা কতটা প্রস্তুত?

মাঝরাতে মানুষের ঘুম ভাঙে নানা কারণে। কিন্তু আমার জন্য সেদিনের কারণটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমার ঘুম ভাঙে প্রবল ঝাঁকুনিতে। ঘুম ভেঙে দেখি, বিছানা কাঁপছে। যেন কোনো থিম পার্কের ম্যাজিক কার্পেটে বসে আছি। হতবাক আমি খামচে ধরি তোশকের প্রান্ত। আমার স্ত্রীও উঠে বসেছে। ও-ই বলে, ভূমিকম্প!
সেটা বুঝতে সময় লাগে না। বাসার গৃহকর্মী বুকের মধ্যে আমাদের মেজো মেয়েকে জাপটে ধরে লম্বা করিডর দিয়ে ছুটে আসে। ভয়ে-আতঙ্কে তারস্বরে চেঁচাচ্ছে সে। তাকে কোনোমতে শান্ত করা হয়। ভূমিকম্প হলে মানুষের মধ্যে দৌড়ে নামার ভূত চাপে। আমরা থাকি ইউনিভার্সিটির বাড়ির চারতলায়। দৌড়ে নামার সময় কি আছে আমাদের!

কম্পন কমলে আমি বারান্দায় এসে দাঁড়াই। বাইরে ধূসর আলো, আকাশে অস্থির কা কা শব্দ, নিচে মানুষের জটলা। কোথাও একটা শিশুর কান্নার আওয়াজ। দেখি আমাদের বিল্ডিংয়ের প্রায় সব বাসিন্দা নিচে নেমে গেছেন। ওপরেই থাকব না নিচে নামব—এই উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করি।
আমি যে ভূমিকম্পের কথা বললাম তা তিন-চার মাস আগের। এরপর অন্তত আরও দুবার ভূমিকম্প হয়েছে দেশে। শেষবার হলো মাত্র কয়েক দিন আগে। সন্ধ্যার পরপর এই ভূমিকম্পের সময় আমাদের সব সন্তান জেগে আছে। পায়ের নিচটা সামান্য দুলছে দেখে আমি তাদের সাহস দেওয়ার জন্য বলি: ‘আর্থকোয়েক ডান্স করব আমরা এখন।’ এই রসিকতা নিশ্চয়ই পছন্দ হয়নি বিধাতার। হঠাৎ দেখি দুলুনি প্রবল হয়েছে, প্রবল থেকে প্রবলতর। বাচ্চারা চিৎকার করে ওঠে। আমিও তাদের সঙ্গে গলা মিলাই। জোরে জোরে আল্লাহর নাম নিই।

আবারও নিচে মানুষের ভিড়! আমরা নামি প্রায় আধঘণ্টা পর, অন্য একটি কাজে। নিচে তখনো কয়েকটি পরিবার। একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের স্ত্রী আমাদের বললেন: ‘আপনারা নামেননি কেন? টের পাননি?’ আমি বলি: ‘নেমে লাভ কী!’ আমাকে অবাক করে দিয়ে একজন হোমরাচোমরা অধ্যাপক বললেন: ‘দৌড়ে নেমে আসবেন। পারলে সিঁড়ির নিচে আশ্রয় নেবেন। সিঁড়ি সেফ!’ সিঁড়ি নাকি সেফ! আমরা দু-এক দিন ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করলাম। ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজই হচ্ছে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করা। আরও ভয়াবহ হচ্ছে সিঁড়ির নিচে আশ্রয় নেওয়া। ভূমিকম্প হলে প্রাণ বাঁচাতে সবচেয়ে জরুরি হলো ড্রপ, কাভার অ্যান্ড হোল্ড মেথড। ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে নিচু হয়ে শক্ত কাঠের টেবিল বা উঁচু খাট বা চৌকির নিচে চলে যেতে হবে। মাথা আড়াল করতে হবে। তারপর টেবিল বা খাটের পা আঁকড়ে ধরতে হবে ভূমিকম্প পুরোপুরি না থামা পর্যন্ত। ঘুম ভেঙে কিছু না পেলে কমপক্ষে বালিশটা রাখতে হবে মাথার ওপর।


Read more

দূষণে হালদার সর্বনাশ

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র চট্টগ্রামের হালদা নদী। বিভিন্ন দূষণের কারণে সর্বনাশ হচ্ছে নদীটির। জীববৈচিত্র্য হারিয়ে কমে যাচ্ছে কার্প জাতীয় মাছের রেণুর উৎপাদন। হারিয়ে যাচ্ছে নদীর নিজস্ব মাছও। রাবার ড্যাম, স্লুইস গেট এবং অপরিকল্পিতভাবে বাঁক কাটার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে। বিভিন্ন ধরনের দূষণও সর্বনাশ করছে নদীর। নদীর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয় থেকে ১৭ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কথা ছিল প্রতি মাসে একটি করে সভার মাধ্যমে করণীয় ঠিক করবে কমিটি। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গঠনের ৬ মাসেও কমিটির একটি সভাও হয়নি। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে এ নদী থেকে সংগৃহীত ডিমে রেণু হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৬০০ কেজি। ২০১৫ সালে এসে তার পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ১০৬ কেজিতে!

আশির দশক থেকে হালদা নিয়ে গবেষণা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। তিনি বলেন, 'হালদা হচ্ছে অনন্য বৈশিষ্ট্যের নদী। এখানে রয়েছে নানা প্রজাতির মা মাছ। ক্রমাগত রাবার ড্যাম এবং স্লুইস গেট নির্মাণ, বাঁক কেটে নদীর দূরত্ব কমানো, কলকারখানা এবং গৃহস্থালি বর্জ্যের কারেণ এ জীববৈচিত্র্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করছে। এর সঙ্গে রয়েছে প্রাকৃতিক কারণও। আবার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হলেও সরকারের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে প্রভাবশালীরা নির্বিচারে মা মাছ ধরছে। এ কারণেও আগের মতো মাছের ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। হালদার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রথমে মা মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে, পাশাপাশি অকেজো স্লুইস গেট অপসারণ এবং পানির প্রবাহ যেন না কমে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।'

২০১৫ সালে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সোসাইটি থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণামূলক নিবন্ধে হালদার জীববৈচিত্র্য তুলে ধরছেন আলী মোহাম্মদ আজাদী ও বান্দরবান সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আরশাদ আলী। নিবন্ধ থেকে জানা যায়, হালদায় রয়েছে প্রায় ৯৩ প্রজাতির মাছ। এর মধ্যে শেল ফিশ ১০ প্রজাতির এবং ফিন ফিশ রয়েছে ৮৩ প্রজাতির। হালদায় নিজস্ব মাছের পাশাপাশি রয়েছে সামুদ্রিক মাছ, মোহনার মাছ, পুকুরের মাছ, প্লাবন ভূমির মাছ, বিলের মাছ। রাতের আঁধারে নির্বিচারে মা মাছ ধরা এবং অন্য নদীগুলোতে প্রজনন মৌসুমে মা ধরা বন্ধ না করার কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে মা মাছের রেণুর পরিমাণ। মশারির কাপড় দিয়ে তৈরি ঘিরা জালের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে গলদা চিংড়ি এবং অন্যান্য প্রজাতি মাছের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। জোয়ার-ভাটার কারণে জমির কীটনাশক নদীতে আসা এবং কারেন্ট জালের অত্যধিক ব্যবহারে এবং বড় মাছ ধরার ফাঁদও নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Read more

রাজধানীর রাস্তায় ময়লা পানির ঢেউ

বর্ষা এসে পেঁৗছায়নি এখনও। অথচ রাজধানীর রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতা শুরু হয়ে গেছে এখনই। তবে বৃষ্টিতে নয়; বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্যমিশ্রিত স্যুয়ারেজের দুর্গন্ধ পানির জন্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীর পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে শুরু করে ভিআইপি সড়কেও দেখা যাচ্ছে ময়লা পানির ঢেউ। এ নিয়ে নাগরিক ভোগান্তি এখন চরমে। তবু এ নিয়ে ঢাকা ওয়াসার নেই কোনো মাথাব্যথা। ময়লা পানির জলাবদ্ধতাকে স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে কথা বলতেও রাজি নন সরকারি এ সংস্থাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

রাজধানীর ফার্মগেটের রাজাবাজার এলাকার রাস্তায় বেশ কিছুদিন ধরেই স্যুয়ারেজ ড্রেনের ময়লা পানি ঢেউ খেলছে। স্থানীয় বাসিন্দা আল ইমরান জানান, জুমার নামাজে যেতে পারেননি। কারণ মসজিদের সামনের রাস্তায় জমে ছিল ড্রেনের ময়লা পানি। শুক্রবার সকাল থেকেই এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা ময়লা পানির মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, হঠাৎ করে ড্রেন থেকে ময়লা পানি উপচে ওঠায় সকাল থেকে ক্রেতারা বাজারে আসতে পারেননি। ফলে ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

নিউ ইস্কাটন এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, দিলু রোডের একটি অংশ প্রায়ই ময়লা পানিতে ডুবে থাকে। কয়েকদিন পরপর ড্রেন উপচে ওঠে ময়লা পানি। দিলু রোড থেকে সহজে বের হয়ে মগবাজার বা হাতিরঝিলের সড়ক ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও ময়লা পানির কারণে তা হচ্ছে না। শিশুদের নিয়ে হেঁটেই ইস্কাটনের মূল সড়ক ঘুরে মগবাজার এলাকায় যেতে হয়।

গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে দিলু রোডে দেখা হলো দিলারা হোসেন টুসি ও তার মা ফেরদৌসির সঙ্গে। তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলেন কীভাবে এই নোংরা পানি পার হওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত পাঁচ টাকা দিয়ে রিকশায় চেপে ময়লা পানির পথটুকু পাড়ি দেন মা-মেয়ে।


Read more


Stakeholders are invited to contribute water, sanitation & environmental news & views to be published in the Monthly     
WatSan e-Bulletin

Contact us

Advocacy & Information Cell
Postal Address: NGO Forum for Public Health
4/6, Block-E, Lalmatia, Dhaka-1207, Bangladesh
Tel: +88 02 58154273-4
email: aic@ngof.org
website: www.ngof.org

Sources: প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ